জাপানের ওসাকায় আয়োজিত ওয়ার্ল্ড এক্সপো প্রায় ৩ দশমিক শূন্য ৫ ট্রিলিয়ন ইয়েন বা ১ হাজার ৯৫০ কোটি ডলারের অর্থনৈতিক প্রভাব তৈরি করেছে। এশিয়া প্যাসিফিক ইনস্টিটিউট অব রিসার্চের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুসারে, ওসাকায় ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণে সহায়ক পরিবেশ তৈরি করেছে এ বাণিজ্য মেলা। কিন্তু যেভাবে ভাবা হয়েছিল, পার্শ্ববর্তী অঞ্চলগুলো এক্সপোর তেমন সুফল পায়নি। বাড়তি পর্যটন বা ব্যবসা হয়নি সেখানে।
এক্সপো ভেন্যুর ভেতর ও বাইরে দর্শনার্থীদের ব্যয় বাবদ ১ ট্রিলিয়ন ইয়েনের বেশি অর্থনৈতিক কার্যক্রম সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি ভেন্যু নির্মাণসহ বিস্তৃত শিল্প খাতে উৎপাদন ও কর্মসংস্থানে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
অবশ্য সম্মিলিত এ অর্থনৈতিক প্রভাব ২০২৪ সালের পূর্বাভাসকৃত ৩ দশমিক ৩৭ ট্রিলিয়ন ইয়েনের তুলনায় কম। ওই সময় ‘গ্রেটার এক্সপো’র ধারণা থেকে হিসাব করা হয়েছে। এতে ওসাকার আশপাশের পুরো অঞ্চলকে একটি ভার্চুয়াল প্যাভিলিয়ন ধরে নানা ইভেন্ট আয়োজনের পরিকল্পনা ছিল।
ছয় মাসব্যাপী এ আয়োজন শেষ হয়েছে ১৩ অক্টোবর। এতে আড়াই কোটির বেশি দর্শনার্থী অংশ নিয়েছেন। কেনাকাটা ও খাবারের খরচের ওপর ভিত্তি করে প্রতিবেদনে গড় ব্যয় নির্ধারণ করেছে এশিয়া প্যাসিফিক ইনস্টিটিউট অব রিসার্চ। সেখানে দেখা যাচ্ছে, ওসাকা প্রিফেকচারের বাসিন্দাদের ক্ষেত্রে গড় ব্যয় ছিল ১৩ হাজার ১৬২ ইয়েন। পশ্চিম জাপান সংলগ্ন অঞ্চলের বাসিন্দাদের গড় খরচ ছিল ১৯ হাজার ৪১৪ ইয়েন। দেশটির অন্য অংশ থেকে আসা দর্শনার্থীদের গড় খরচ হয়েছে ৫৯ হাজার ২৫ ইয়েন।
বিদেশী পর্যটকদের গড় ব্যয় ছিল ১ লাখ ৪৮ হাজার ৪৩০ ইয়েন। এতে বড় ধরনের ভূমিকা রেখেছে আবাসন খরচ।
ভেন্যুর ভেতর ও বাইরে সম্মিলিত ব্যয়ের মধ্যে এক্সপোর সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের ব্যয়ও অন্তর্ভুক্ত। এর আকার দাঁড়িয়েছে ১ দশমিক শূন্য ৪ ট্রিলিয়ন ইয়েনে। এছাড়া এক্সপোর জন্য পণ্য, কাঁচামাল ও উপকরণ বাবদ অর্থনৈতিক কার্যক্রমের প্রভাব ছিল ১ দশমিক ৬৪ ট্রিলিয়ন ইয়েন।
গবেষকরা বলছেন, দর্শনার্থী আকর্ষণে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছে এক্সপোর মাসকট মিয়াকু-মিয়াকু। সামগ্রিক অর্থে পণ্য বিক্রির পরিমাণ সন্তোষজনক। তবে বেশির ভাগ অর্থনৈতিক সুফল ওসাকা প্রিফেকচারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকায় বিস্তৃত অঞ্চলে পর্যটন বাড়ানোর চ্যালেঞ্জ থেকেই গেল। —খবর জাপান টুডে